নৃত্যাঞ্চলের ২৫তম রজতজয়ন্তী: পিঠা-মিলনে স্বচ্ছন্দ আয়োজন – Daily Bhorer Potrika

নৃত্যাঞ্চলের ২৫তম রজতজয়ন্তী: পিঠা-মিলনে স্বচ্ছন্দ আয়োজন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬

নাচের আঙিনায় নয়, পিঠার ঘ্রাণ আর পুরনো স্মৃতির আলবামে ভরে উদযাপন করল দেশের অন্যতম নৃত্যসংগঠন নৃত্যাঞ্চল। প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তিতে শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের রাজধানী স্কুল মাঠে আয়োজিত হলো ব্যতিক্রমী একটি পৌষমেলা ও মিলনমেলা।

নিশক তারেক আজিজের বরাত থেকে জানা যায়, ঠাণ্ডা ঘনত্বের মধ্যে দর্শক ও অংশগ্রহণকারীরা শীতের নানা রকম পিঠার চাটুনি নিচ্ছিলেন, দর্শনীয় ছিল নৃত্যাঞ্চলের বহু বছর ধরে সঞ্চিত পোস্টার ও ডকুমেন্টেশন। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক আন্তরিক, ঘরোয়া সাংস্কৃতিক পরিবেশ। বড় মঞ্চনৃত্য না থাকলেও ছিল স্মৃতিচারণ, পুরনো তোলা ছবি-ভিডিওর প্রদর্শনী এবং বন্ধুঅভিভাবকরা মিলে সময় কাটানোর আয়োজন।

নৃত্যাঞ্চল শুরু হয় ২০০০ সালে সাংস্কৃতিক সংগঠক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে সঙ্গে নিয়ে—তার নেতৃত্বে তারকা নৃত্যশিল্পী শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নীপা সংগঠনটি গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল নৃত্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভিব্যক্তি তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৃত্যশিল্পীদের তৈরি করা। পঁচিশ বছরে সেই স্বপ্ন ধীরে ধীরে ব্যক্ত হলো: হাজারো শিক্ষার্থী, অসংখ্য সুচিত্রী ও প্রযোজনায় তাদের স্পর্শ থেকে সংগঠনটির প্রতিফলন পাওয়া যায়।

নৃত্যনীতির রজতজয়ন্তীর ভিন্ন রূপ নিয়ে শিবলী মহম্মদ বলেন, “নাচ তো আমরা করেই—এটাই আমাদের কাজ। কিন্তু এবার চেয়েছি একটি ঘরোয়া, অন্তরঙ্গ আয়োজন করা হোক। নৃত্যশালার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মানেই যে মঞ্চে বড় প্রদর্শনী হবে—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। আমাদের ডকুমেন্টেশন দেখানোই মূল উদ্দেশ্য ছিল। তবু পিঠা উৎসব ও মিলনমেলার ধারাবাহিকতায় ছাত্রছাত্রীদের কয়েকটি নৃত্য দেখানোও হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এ বারের প্রধান লক্ষ্য ছিল অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিল্পী ও শুভানুধ্যায়ী মিলিয়ে একসাথে সময় কাটানো—আড্ডা, স্মৃতি ভাগাভাগি এবং দীর্ঘ পথচলার কথার বিনিময়।

শামীম আরা নীপার ভাষায়, “এটা আনন্দঘন ২৫ বছর। আমরা কাজ করি আনন্দের জন্য—শুরুর দিন থেকেই স্বপ্ন ছিল দেশের সংস্কৃতি নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্ম তৈরি করা। আজ মনে হয় অনেকটায় সেই পথ পেরিয়ে এসেছি। এটা শুধু সময়ের হিসাব নয়, আমাদের জীবনের একটি বড় অধ্যায়।” তিনি যোগ করেন, নৃত্যাঞ্চল শুরু থেকেই নৃত्यকেই কেন্দ্র করে কাজ করেছে; গান বা আবৃত্তির সঙ্গে মিশিয়ে নয়, সম্পূর্ণ নৃত্যভিত্তিক মনোযোগই তাদের আলাদা পরিচয় গড়েছে।

ছোট ও ঘরোয়া এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে নৃত্যাঞ্চল তার অতীতের গল্পগুলো সজীব রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছে—শুধু পারফর্ম্যান্স নয়, সম্পর্ক ও স্মৃতিই এখানে উদ্‌যাপনের কেন্দ্রবিন্দু।

প্রতিবেদন: আজকালের খবর/আতে