ওয়াশিংটনভিত্তিক ট্রাইব্যুনালের রায়: নাইকোকে বাংলাদেশকে ৫১৬ কোটি টাকা দিতে হবে – Daily Bhorer Potrika

ওয়াশিংটনভিত্তিক ট্রাইব্যুনালের রায়: নাইকোকে বাংলাদেশকে ৫১৬ কোটি টাকা দিতে হবে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ইকসিড) সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট (প্রায় ৮ বিলিয়ন) গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে কানাডার কোম্পানি নাইকোকে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য আরও ২ মিলিয়ন ডলার—মোট ৪২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা) বাংলাদেশকে দিতে হবে। এই রায় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন।

পেট্রোবাংলার সূত্র জানিয়েছে, ইকসিডের রায়ে গ্যাসক্ষেত্রে পোড়া মজুত ও পরিবেশগত ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষতির হিসাব মিলিয়ে এই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত। পরের বছর কূপ খনন করে ১ হাজার ৯০ মিটার থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় নয়টি গ্যাস স্তর শনাক্ত করা হয়। এখান থেকে স্থানীয়ভাবে সিমেন্ট ও পেপার মিলকে গ্যাস সরবরাহ করা হত। প্রায় ২৬.৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর পানির 올라 আসায় কূপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ক্ষেত্রটি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

খননকাজ শুরু হওয়ার পর ২০০৫ সালে ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন টেংরাটিলায় পরপর দুটি বড় রকমের বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে মজুদ গ্যাস পুড়ে গেলে আশপাশের নির্মাণকাজ ও সম্পদে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর পেট্রোবাংলা নাইকোকে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি করে, যা কোম্পানিটি নামতে অস্বীকার করে। ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা, সেসঙ্গে ফেনীর গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট দেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন; সুপ্রিম কোর্টেও বাংলাদেশের পক্ষে রায় আসে। যদিও আদালতগুলোতে নেওয়া উদ্যোগ ও বিল না দেওয়ার কারণে নাইকো ২০১০ সালে ইকসিডে দুটি মামলা করে। ২০১৪ সালের এক রায়ে ইকসিড পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে ২০১৬ সালে তেল-গ্যাস উৎপাদন সংস্থা বাপেক্স নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (প্রায় ১১৭ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণের দাবি করে ইকসিডে মামলা করে এবং সেই মামলার চূড়ান্ত আদেশে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়।

ইকসিডের রায়ে বলা হয়েছে, খননকাজ নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাতে পরিচালিত হচ্ছিল এবং আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়ায় বিস্ফোরণ ঘটেছে, তাই নাইকো সরাসরি ঘটনার দায়ী।

টেংরাটিলা ক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম নামে দুটি অংশে বিভক্ত। আগুনে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর ও ছাতক পূর্ব অংশের মজুদ অক্ষত রয়েছে। এই ক্ষেত্রের সম্ভাব্য মজুত গ্যাস ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে ধারণা করা হয়।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বলেন, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) প্রস্তুত রয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ের প্রকাশের পর এখনই আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রায়_publication: আজকালের খবর/এমকে