এক কথায়—অবিশ্বাস্য। বিস্তারিতটা বললে মিলে যায় অনেক গল্প। কারণ সিরিজটির নামই ‘এটা আমাদেরই গল্প’। এই পারিবারিক ধারাবাহিকটির নির্মাতা সফল সিনেমা-নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।
নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ঘাঁটে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত সিরিজটির ২৪টি পর্ব বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম—ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যম—এ প্রকাশিত হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব পর্বের মোট ভিউ এখন প্রায় ২.৬ বিলিয়ন, অর্থাৎ ২৬০ কোটি পার। এটি বাংলাদেশের কোনো ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে বিরল ও অনন্য এক রেকর্ড বলে মনে করছেন নির্মাতা এবং সংশ্লিষ্টরা।
সিনেমাওয়ালা ব্যানারে নির্মিত এই সিরিজটি কেবল দেশের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য,ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপান ও আফ্রিকার মতো অঞ্চলের দর্শকরাও প্রতিনিয়ত এটি দেখছেন—যার প্রমাণ পাওয়া যায় সোশ্যাল মিডিয়ার ভিউ ইনসাইট থেকে।
টেলিভিশনে প্রচারের পাশাপাশি অনলাইনে সিরিজটির প্রদর্শন কৌশলও কাজ করেছে। চলতি সপ্তাহে নতুন পর্বগুলো চ্যানেল আইতে প্রতি মঙ্গলবার ও বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় প্রচার হয় এবং একইসঙ্গে সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মুক্তি পায়। টেলেভিশন সম্প্রচারের এক ঘণ্টার মধ্যে অনেকে ইউটিউবে এসে প্রতিটি পর্ব মিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করছে—এমন দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের নাট্যক্ষেত্রে বিরল।
সিরিজটির নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ২৭ জানুয়ারি দুপুরে তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, ‘‘এটা আমাদের গল্প’ সিরিজটি এখন পর্যন্ত সব সোশ্যাল মিডিয়া মিলিয়ে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন (২৬০ কোটি) ভিউ অর্জন করেছে। আপনাদের এই ভালোবাসা পেয়ে আমরা সম্মানিত। প্রতিটি পর্ব ইউটিউবে এক কোটি’রও বেশি ভিউ পেয়েছে—এসবের জন্য ধন্যবাদ।’’
কাহিনির মূল ক্লাসিক্যাল থিম—পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা, অভিমান ও মমত্ববোধ। নির্মাণগ্রুপ জানিয়েছে, দর্শক যেন নিজেদের জীবনের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র মুহূর্ত এখানে খুঁজে পান, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য। তাই সিরিজটির ট্যাগলাইনও— ‘‘পরিবারই শুরু, পরিবারই শেষ।’’
সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোয় অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, খায়রুল বাশার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা আক্তার মিঠু, নাদের চৌধুরী, শিল্পী সরকার অপু, ডিকন নূর, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু প্রমুখ।
শিরোনাম গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন আরফিন রুমি এবং গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা।
এই সফলতা চলচ্চিত্র নির্মাণ ও ধারাবাহিক নির্মাণের মাঝখানে পারিবারিক গল্পের প্রাসঙ্গিকতা ও দর্শকের ভালোবাসার প্রতিফলন—এটাই বলে মনে করছেন নির্মাণদল।
