ইতিহাসে প্রথম: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫,২০০ ডলার ছুঁল – Daily Bhorer Potrika

ইতিহাসে প্রথম: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫,২০০ ডলার ছুঁল

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ব্যাপক উত্থানের ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি 5,200 ডলারের মাইলফলক ছুঁয়ে গেছে। বুধবার (28 জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের মূল্য 0.6 শতাংশ বাড়ে এবং আউন্সপ্রতি 5,219.97 ডলারে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

বছরের শুরু থেকেই স্বর্ণের দর প্রায় 20 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণ 2.6 শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়েছে আউন্সপ্রতি 5,216.80 ডলারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ফিরছেন।

বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওংয়ের মন্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ডলারের মান আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প ডলারের মানকে ‘অনেক বেশি’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়ে সুদের হার কমাতে পারেন — এ কারণে ডলারের পশ্চাৎপট তৈরি হচ্ছে এবং স্বর্ণের বাজার চাঙা হচ্ছে।

সুদের হার কমতে পারে এমন কল্পনাই ডলারের দুর্বলতা বাড়িয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়িয়ে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেছেন। বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন অচিরেই স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি 5,240 ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

স্বর্নের উত্থানের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুও বড় মাপের লাভ করেছে। স্পট রুপার দাম চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় 60 শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি 113.63 ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম 1.5 শতাংশ বাড়ে আউন্সপ্রতি 2,679.15 ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দর আউন্সপ্রতি 1,951.93 ডলারে অবস্থান করেছে।

ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা ডলারের বিকল্প হিসেবে বাস্তব সম্পদে বড় পরিসরে লগ্নি করলে 2026 সালের মধ্যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি 6,000 ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারকেও প্রভাবিত করতে পারে। ডলারের দুর্বলতা ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যতদিন থাকবে, ততদিন বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার মূল্যউত্থান অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ কেবল অলঙ্কার নয়; এটি অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে 자리 করে ফেলেছে।

সূত্র: রয়টার্স

আজকালের খবর/ এমকে