রাজধানীর শান্তিনগরের একটি পিঠা উৎসবে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে দলের বাইরে করার দাবি জানিয়েছেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার দুপুরে ফকিরাপুলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পাটওয়ারী এই দাবি করেন।
পাটওয়ারীর অনুসারে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের পিঠা উৎসবে তিনি অতিথি হিসেবে যাওয়ার পর সেখানে মির্জা আব্বাসের সমর্থকরা তাদের ওপর অপ্রত্যাশিত আক্রমণ চালায়। কিছু তরুণ তার ওপর স্লোগান দিলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং তিনি শারীরিক হামলারও শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পাটওয়ারী বলেন, ‘হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে মির্জা আব্বাসের বাহিনী আমাদের ওপর হামলা করেছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব—তথাকথিত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে—আমি মির্জা আব্বাসকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।’ তবে হামলার বিচার তিনি পুরো বাংলাদেশের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
পাটওয়ারী বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে — দলে সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেবেন, নাকি তাদের বহিষ্কার করবেন। আমি পুরো বাংলাদেশের কাছে হামলার বিচার দিলাম।’ ঘটনার পর তিনি এবং তাঁর কর্মীসমর্থকরা ফকিরাপুল মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং পরে পারাবত হোটেলের সামনে অবস্থান নেন।
নেতা অভিযোগ করেন, হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন কয়েকজন—যাদের মধ্যে অনেকে আর ছাত্র নয়—এবং পুরো ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি। তিনি আরও বলেন, হামলার আগে কলেজে প্রশ্নফাঁস, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও গভর্নিং বোর্ডের অনিয়মের অভিযোগ শুনেছেন। পাটওয়ারী দাবি করেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়েছেন আওয়ামী লীগের সময়ে এবং গভর্নিং বোর্ড গঠন করেছেন মির্জা আব্বাস।
তিনি নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে নাকচ করে বলেন, ‘আমার কাছে কোনও দুর্নীতির টাকা নেই, সন্ত্রাসী টাকাও নেই।’ নির্বাচনে জিতুক বা না জিতুক, ঢাকা-৮ এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব তিনি মেনে নিতে দেবেন না বলেও জানান তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে জনগণ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরোধী রায় দেবে।
পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, অতীতে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন; তখন তিনি তাদের দোয়া করেছিলেন এবং দেশ ঠিক রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন—আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, এসব কর্মকাণ্ড দেখে লজ্জা পেতেন বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, তাহলে কেন তারা মাঠে থাকবে সেটি নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করতে হবে।
পাটওয়ারীর সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতসহ নির্বাচনী জোটের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
(সূত্র: আজকালের খবর/বিএস)
