টিআইবি: ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির ৫৯.৪১% প্রার্থী ঋণগ্রস্ত – Daily Bhorer Potrika

টিআইবি: ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির ৫৯.৪১% প্রার্থী ঋণগ্রস্ত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২২, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রার্থীদের ইশতেহারসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলার পাশাপাশি মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংস্থার কমিউনিকেশন ও আউটরিচ বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। তাদের বিশ্লেষণে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল ও ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ১,৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১,৭৩২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৪৯ জন।

টিআইবির হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীর ২৫.৫ শতাংশের ঋণ বা দায় রয়েছে। এসব প্রার্থীদের মোট ঘোষিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮,৮৬৮.৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে ব্যাংকঋণ রয়েছে ১৭,৪৭১.৬৭ কোটি টাকা।

দলের ভিত্তিতে বিশ্লেষণে দেখা গেছে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯.৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত, যা সব দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ঋণগ্রস্তের হার ৩২.৭৯ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে এই হার ২৬.৯৭ শতাংশ।

নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ পরিমাণ আগের মতোই ন্বল—এবারও তারা মোট প্রার্থীর মাত্র পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেননি। পেশাগত হিসেবে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৪৮ শতাংশের বেশি। আইন ও শিক্ষক পেশার প্রার্থীর অংশ হিসেবে যথাক্রমে ১২.৬১ শতাংশ এবং ১১.৫৬ শতাংশ দেখা গেছে। নিজেরেকে পেশাদার রাজনীতিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মাত্র ১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের ভিত্তিতে এবার কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ এবং শত-কোটিপতি ২৭। টিআইবির তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা চলছে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ; অতীতে মামলা হয়েছিল ৭৪০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, অর্থাৎ ৩১.৬৪ শতাংশ।

নির্বাচনী খরচের দিকেও নজর দিলে দেখা গেছে সব দলের প্রার্থীরা মিলিয়ে ঘোষিত সর্বমোট ব্যয় ৪৬৩.৭ কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী প্রতিজন প্রার্থীর গড় ঘোষিত ব্যয় প্রায় সাড়ে ২২ লক্ষ টাকা। সর্বোচ্চ খরচ করেছেন বিএনপি (১১৯.৫ কোটি) এবং দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ (৮০.৬ কোটি)।

টিআইবির আরও একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীর পরিবারের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ প্রার্থীর চেয়ে বেশি দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—১১৮ প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদ প্রার্থীর চেয়ে বেশি, একইভাবে ১১৮ প্রার্থীর ক্ষেত্রে দালান/ফ্ল্যাটের পরিমাণ বেশি এবং ১৬৪ প্রার্থীর ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ প্রার্থীর তুলনায় বেশি।

টিআইবি এই তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সরকারের, রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, প্রার্থীদের আর্থিক প্রতিবেদন ও দায়-দেনা সম্পর্কে সম্যক তথ্য থাকলে ভোটার বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্বচ্ছ হবে।

(আজকের খবর/ এমকে)