কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা হাইকোর্ট রিট খারিজ হওয়ার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাননি—বরং যাচ্ছেন। হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১৭ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
রায় দেওয়া হাইকোর্ট বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম। বেঞ্চ বুধবার মামলা খারিজ করে দেন, ফলে সময়মতো আপিল না করলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ এবং অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন। প্রতিপক্ষ হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
হাসনাত আবদুল্লাহর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু বলেছেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আদালতকে ঋণখেলাপি সম্পর্কিত তথ্য গোপন করে প্রতারণা করেছেন—এ দাবি মারফত তিনি ইসিতে আপিল করেছিলেন। আদালত এই সূত্র ধরে ইসির সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে, ফলে মঞ্জুরুল এখন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, যদিও তিনি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
ঘটনার পটভূমি: প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এরপর এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শুনানি করে ইসি ১৭ জানুয়ারি হাসনাতের আপিল মঞ্জুর করে মঞ্জুরুলের মনোনয়নপত্র বাতিল করে।
মঞ্জুরুল ১৯ জানুয়ারি ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ২০ জানুয়ারি রিটের শুনানির দিন নির্ধারণ করেন, কিন্তু বেঞ্চের আদেশে রিট খারিজ হওয়ায় তিনি আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আপিল বিভাগে কী সিদ্ধান্ত হবে সেটাই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত মঞ্জুরুল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না।
সূত্র: আদালত ও আইনজীবীদের বক্তব্য
(আজকালের খবর/ এমকে)
