২০২৫: ইসরায়েলের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক চুক্তি – Daily Bhorer Potrika

২০২৫: ইসরায়েলের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক চুক্তি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২১, ২০২৬

২০২৫ সালে ইসরায়েল জ্বালানি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে বিশাল ও ইতিহাসসিদ্ধ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছর দেশটির বৈশ্বিক বাণিজ্যিক ও রপ্তানি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তির পরিধি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, যা অর্থনীতি ও কূটনীতি উভয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

বাণিজ্যিক তালিকায় গত বছর শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, চীন ও জার্মানি। একইসঙ্গে গুগল, এনভিডিয়া, পালো অল্টো নেটওয়ার্কসের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো ইসরায়েলি কোম্পানিতে বড় বিনিয়োগ ও অধিগ্রহণ চূড়ান্ত বা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে নিয়ে গেছে। এসব চুক্তি ইসরায়েলকে প্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটির কেন্দ্র হিসেবে আরও সুদৃঢ় করেছে।

জ্বালানি ক্ষেত্রে গত বছরের সবচেয়ে বড় করণীয় ছিল মিসরের সঙ্গে স্বাক্ষরিত গ্যাস চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুমোদিত ওই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ২০৪০ সাল পর্যন্ত লেভিয়াথান ক্ষেত্র থেকে মিসরকে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করবে; চুক্তির মূল্য ধার্য করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার। এই চুক্তি ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের জ্বালানি সংযোগ ও নির্ভরশীলতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রযুক্তি খাতেও ইসরায়েল ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। মার্কিন অ্যালফাবেটের গুগল ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজকে নিয়ে ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের একটি বড় লেনদেন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পালো অল্টো নেটওয়ার্কস আড়াই হাজার কোটি ডলারে সাইবারআর্ক অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া এনভিডিয়া ইসরায়েলে বৃহত্তম এআই ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে। এসব বড় চুক্তি ইসরায়েলের প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও প্রাধান্য দিয়েছে।

সামরিক রপ্তানিতেও নতুন রেকর্ড গড়েছে ইসরায়েল। বিশেষ করে জার্মানি তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিমাণ বাড়িয়ে এখন সাড়ে ৬০০ কোটি ডলার দেওয়া সম্মত হয়েছে; এর মধ্যে ইসরায়েলি ‘অ্যারো-৩’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বড় অর্ডার অন্তর্ভুক্ত। এটি একক কোনো দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক রপ্তানি হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।

২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার (১৪ হাজার কোটি ডলার হিসেবে রিপোর্ট করা), যা দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১৯ শতাংশ। একই সময়ে চীন-ইসরায়েল বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার, আর তুরস্কের সঙ্গে ছিল ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার।

ইসরায়েলের আমদানির মধ্যে প্রধানত ফোন, কম্পিউটার, ভারী যানবাহন এবং পেট্রোলিয়াম-ও কয়লা জাতীয় খনিজ পণ্য ছিল। রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল হীরা, সোনা ও উন্নত অপটিক্যাল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও গত বছর উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, ‘যুদ্ধে পরীক্ষিত’ বা ‘war-tested’ লেবেল দেয়ার ফলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। এসব চুক্তি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ককেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে—যা দেশের ভবিষ্যৎ রপ্তানি ও কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।

সূত্র: আল জাজিরা।

আজকালের খবর/ এমকে