বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী তাদের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের অগ্রাধিকার, নারীর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপসহ মোট ২৬টি বিষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা জানানো হয়েছে।
পার্টিটি বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে এই ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। ইশতেহারে যে ২৬টি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সেগুলো হল—
১. জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার্বভৌম ও আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৫. আইনশৃঙ্খলা মজবুত করে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ দেশ গঠন।
৬. সকল স্তরে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।
৮. প্রযুক্তি, উৎপাদন, কৃষি ও শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি; সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও সুযোগসুবিধার সমতা নিশ্চিত করা।
৯. ব্যাংক ও আর্থিক ব্যবস্থায় সংস্কার করে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ-বান্ধব, টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা।
১০. সমানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা গ্রহণসহ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
১১. অতীতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকারের লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা।
১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও আহত-অসামর্থদের সহায়তা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকে আধুনিকায়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন আনা।
১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত অবক্ষয়, বর্জ্য ও বন্যা-ঝুঁকি কমিয়ে ‘তিন শূন্য’ লক্ষ্য অর্জন করে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়া।
১৫. ক্ষুদ্র ও মধ্যম শিল্প-বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও ব্যাপক শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি।
১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান উন্নয়ন, মানসম্মত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র গঠন।
১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশ গঠনে তাদের সমমানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘুর বিভাজন না করে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা।
১৯. সার্বজনীন ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দরিদ্রদের জন্য ধাপে ধাপে বিনামূল্যের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
২০. আধুনিক বিশ্বমানের চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার ও ধাপে ধাপে বিনামূল্যের শিক্ষার নিশ্চয়তা।
২১. জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল করা এবং মৌলিক চাহিদার পূর্ণতা নিশ্চিত করা।
২২. যাতায়াত ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন এনে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে দূরত্ব ধীরে ধীরে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা এবং আঞ্চলিক সংযোগ উন্নত করা।
২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে বাসস্থান নিশ্চিত করা।
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ ঘটিয়ে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ফ্যাসিবাদের পুনর্জাগরণ রোধ করা।
২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা বিধান চালু করে নিরাপদ কর্মজীবন নিশ্চিত করা এবং ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২৬. সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসন ও সমৃদ্ধ কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন।
সূত্র: আজকের খবর/বিএস
