ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান মার্ক বুচার বলেন, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া ভবিষ্যতে একটি স্পষ্ট ও অনুসরণের মতো নজির হওয়া উচিত, যাতে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা বজায় থাকে।
প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা আশঙ্কায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানায় তারা ভারতে খেলবে না এবং ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। কিন্তু আইসিসি পূর্বসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে বললে বিসিবি তাদের অবস্থায় অনড় থাকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে তুলে আইসিসি তাদের স্থানে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এই টুর্নামেন্ট আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হবে।
উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে ৫৩ বছর বয়সী বুচার বলেন, কেউ যদি সরকারি সিদ্ধান্ত বা অন্য কারণে ভেন্যুতে যেতে অস্বীকার করে, বিশেষ করে নিরাপত্তাজনিত ভাবগর্তে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়াই ন্যায়সঙ্গত হবে। তাঁর মতে, এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরের যোগ্য দল সুযোগ পাবেই এবং টুর্নামেন্টও নির্বিঘ্নে চলবে।
বুচার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ভারতের এবং পাকিস্তানের সমস্যার পর টুর্নামেন্ট চালিয়ে নেওয়ার জন্য ম্যাচগুলো দুবাইয়ে আয়োজন করা হয়েছিল, এমন বহুবার ক্রিকেটের ইতিহাসে টুর্নামেন্ট কাঠামো সামঞ্জস্য করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদাহরণ আগেও খুব দেখা যায়নি।
ওই প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে বলছেন, তখন ভারত পাকিস্তানে যেতে রাজি না হওয়ায় বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের পর আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজিত হবে। একইসঙ্গে বলা হয়, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসি আয়োজিত ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হবে।
বুচার আরও বলেন, ক্রিকেটে আর্থিক বা রাজনৈতিক প্রভাবের চেয়ে খেলার সততা ও ন্যায্যতা হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যোগ করেন, ভারতের অবস্থান চেষ্টামত সুষ্পষ্ট ছিল এবং সব দলই এমন পরিস্থিতিতে একইভাবে কাজ করতে পারে না—তবু খেলাটির সততা সর্বোপরি থাকা উচিত।
মার্ক বুচার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য হিসেবে বলা যায়, তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ৭১টি টেস্ট খেলেছেন; ৮টি সেঞ্চুরি ও ২৩টি ফিফটি রেখে মোট ৪২৮৮ রান করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাকি দুই ফর্ম্যাটে তিনি অংশ নেননি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি ২৮০টি ম্যাচে ৩৮টি সেঞ্চুরি সহ ১৭,৮৭০ রান করেছেন এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ১৩ ম্যাচে দু’টি ফিফটি আছে তার।
আজকালের খবর/বিএস
