মার্ক বুচার: বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত – Daily Bhorer Potrika

মার্ক বুচার: বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ব্যাটসম্যান মার্ক বুচার বলেছেন, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে যে ভাবে বাদ পড়ল, সেটিকে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর জন্য একটি কঠোর ও পরিষ্কার দৃষ্টান্ত হিসেবে নেওয়া উচিত—যাতে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষা পায়। তার মতে, কোনো দল যদি নিরাপত্তা বা অন্য কোনো কারণে আয়োজক দেশে ভ্রমণ বা খেলার অনুমতি না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেই দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়াই সঠিক নিয়ম হওয়া উচিৎ।

নিরাপত্তা শঙ্কা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়া সম্পর্কে বিসিবি আইসিসিকে ভেন্যু বদলের অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশকে পূর্বসূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। পরে বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় আইসিসি তাদের জায়গায় বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে—যদি আয়োজন শুরু হয় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে।

উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে ৫৩ বছর বয়সী বুচার বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের এই ঘটনা এমন এক নজির, যেটা ভবিষ্যতে অনুসরণ করা হতে পারে। সরকারি সিদ্ধান্ত হোক বা দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত—নিরাপত্তা বা অন্য কোনো কারণে যদি কোনো দেশেই গিয়ে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে, তাহলে তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়া উচিত। এরপর পরের দল সুযোগ পাবে এবং টুর্নামেন্ট চলবে।’’

বুচার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ঘটনা টেনে বলেন, ভারতের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্যা দেখা গেলে শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ে ম্যাচ আয়োজন করে সমাধান হয়েছিল। ক্রিকেটে অচিরেই অনেক সময় টুর্নামেন্টের কাঠামো বদলানো হয়েছে কোনো দলকে মানিয়ে নিতে—কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যে প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা আগের সঙ্গে মিল রাখে না।

তিনি আরও স্মরণ করান, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে ভারতের পাকিস্তানে যাওয়ার অনিচ্ছার পর বিসিসিআই, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করা হবে, এবং ২০২৪–২০২৭ সময়কালে আইসিসির ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তানের সব ম্যাচই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হবে।

বুচারের মতে, ক্রিকেটে আর্থিক অথবা রাজনৈতিক কারণে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেয়ে খেলাটির সততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘‘আমি বলছি না সবাই ভারতের মতো অবস্থায় আছে—তবে খেলাটার সততা, ন্যায়বিচার ও নিয়মের একরকম প্রয়োগই সবচেয়ে বেশি জরুরি।’’

ক্রিকেট থেকে উঠে আসা এই বিশ্লেষক ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ৭১টি টেস্ট খেলেছেন। তার সংগ্রহ ৮ সেঞ্চুরি ও ২৩ ফিফটিসসহ ৪২৮৮ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাকি দুই ফরম্যাটে তিনি খেলেননি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৮০ ম্যাচে ৩৮ সেঞ্চুরি ও ১৭,৮৭০ রান করেছেন, আর ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ১৩ ম্যাচে দুটি ফিফটি করেছেন বুচার।