তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত সংসদে পাসের আহ্বান – Daily Bhorer Potrika

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত সংসদে পাসের আহ্বান

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

সদ্য অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আসন্ন নির্বাচনের পর প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দ্রুত আইন হিসেবে গৃহীত করার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স — আত্মা। তারা এটিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এবং তামাক কোম্পানির বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যত নীতি-নির্ধারকদের সতর্ক থাকতে বলেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিএমএ ভবনে আত্মা’র আয়োজিত সভায় এই বার্তা জানানো হয়। সভায় বলা হয়, অধ্যাদেশটি যদি সংসদে আইন হিসেবে গৃহীত হয়, তা হলে আগামী প্রজন্ম নিকোটিন পণ্য ব্যবহার শুরু করতে বাধ্য হবে না এবং অন্যান্য তামাকপণ্য ব্যবহারের প্রবণতাও কমে যাবে। নারী, শিশু ও অধূমপায়ী মানুষরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে অধিক সুরক্ষা পাবে। সার্বিকভাবে তামাকজনিত রোগে অধিক মৃত্যু ও আর্থসামাজিক ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস পাবে বলে তারা আশাবাদী।

আত্মা’র পক্ষ থেকে বলা হয়, অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপ দেয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে যদি এটি পাস না হয়, তাহলে অধ্যাদেশটি বাতিল বলে গণ্য হবে। তাই নতুন নির্বাচিত সংসদকে দ্রুত এ বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার অনুরোধ জানান তারা।

সভায় উল্লেখ করা হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-2025 অনুমোদনের সময় তামাক কোম্পানিগুলোর নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের ফলে চূড়ান্ত খসড়া থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাদ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে খোলা ও খুচরা তামাকপণ্যের বিক্রয় বন্ধ, ভ্রাম্যমাণ ও ফেরি করে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা এবং তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার মতো প্রস্তাব। আত্মা’র বক্তারা ভবিষ্যত পলিসি-নির্ধারকদের এসব বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

সভায় তামাক ব্যবহারের প্রাসঙ্গিক স্থিতি তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে আনুমানিক ২ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। তামাক ব্যবহার ও উৎপাদন থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি। এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরে বক্তারা বলেন, অধ্যাদেশটি সংসদে পাস হলে সরকার ও জনগণ উভয়ই লাভবান হবে।

আত্মা’র সভায় সংগঠনের কার্যক্রম ও করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞা’র হাসান শাহরিয়ার। বিশেষ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর মাশরুর জামান রনি, আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং সদস্যসচিব এবিএম জুবায়ের প্রমুখ। সভায় মোট ৫৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নেয়া সংবাদকর্মীরা সমস্ত তথ্য-প্রকাশে সতর্কতার অনুরোধ জানান এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিকে শক্তভাবে সামনে রাখার প্রস্তাব করেন। সভার যৌক্তিক কাছে যে আহ্বানটি তুলে ধরা হলো তা হলো — সিদ্ধান্তকেন্দ্রিক বিভ্রান্তিকরণে ভুগে জনস্বার্থ বিস্মৃত হতে দেওয়া যাবে না।

সূত্র: আজকালের খবর/বিএস