যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে: বিদেশি সূত্রের সতর্কতা – Daily Bhorer Potrika

যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে: বিদেশি সূত্রের সতর্কতা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময়ে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মিডল ইস্ট আই’র এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এমন একটি অভিযান হতে পারে, তবে পরিস্থিতি বদলে গেলে সময়সীমা পরিবর্তিতও হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার পরে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধ এবং তা কিভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে—নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতভেদ রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা তাত্ক্ষণিক কার্যক্রম সমর্থন করছেন, আবার অনেকে বিচক্ষণতা অবলম্বনের পক্ষে।

ওয়াশিংটন এই ভাবনা বিবেচনা করছে এমন একটি প্রেক্ষাপটই—ইরানে এক মাস ধরেই বিক্ষোভ চলছে এবং بিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়ার অভিযোগ উঠেছে; বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে যে দমন-পীড়ণের ফলে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব কেসকে সামনে রেখে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছেন।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে কিছু সময় উত্তেজনা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কূটনৈতিক চাপ বিবেচনার কথা সাংবাদিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে; প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপও এ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও তার স্থায়িত্ব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাখ্যার ভিন্নতা রয়েছে।

কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ সাময়িকভাবে থামিয়েছে; তবে সাবেক কিছু মার্কিন কর্মকর্তা এটিকে কেবল অস্থায়ী বিরতি হিসেবে দেখছেন। এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আই-কে জানিয়েছেন, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা অভ্যন্তরে এখনও কোনোভাবে সম্পূর্ণ বাতিল হয়নি—তবে এই ধরনের দাবির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জানুয়ারির শুরুর তুলনায় এখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে অনেক বেশি প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান এবং যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে এবং এসব প্রস্তুতি বেশ এগিয়ে গেছে বলে তাদের ধারণা।

মার্কিন সেনা কমান্ড (US Central Command) জানিয়েছেন, বিমানবাহী যুদ্ধতরী জনাব আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছে গেছে; এতে এফ-৩৫, এফ/এ-১৮ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিমানসহ নানা ধরনের প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আরও বলা হয়েছে, জর্ডানে একটি ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে।

কয়েকটি সূত্র বলছে, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার অনুমতি দেয়নি; এই নিষেধাজ্ঞার একটি সময়সীমা হিসেবে এপ্রিল ২০২৫-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে—তবে এ সংক্রান্ত দাবিও ভিন্ন সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।

রয়টার্সের উদ্ধৃত একটি শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আরব দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে কোনো হামলা হলে সেই দেশগুলোকেও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে হতে পারে। সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও তুরস্ক প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান হামলার পক্ষে থাকতে পারে—তবে পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড কোনো সামরিক কাজে ব্যবহার করতে দেবে না।

একাংশ বিশ্লেষক সতর্ক করে বলছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চরম পদক্ষেপ নেয়—যেমন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত বা হরমুজ প্রণালী নাকাবন্দি করে দেয়—তখন তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ কাঁচা তেল পরিবহন হয়—অতএব চালিকে বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলবে।

মিডল ইস্ট আই ও অন্যান্য বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের বড় ধরনের সংঘর্ষের ফলাফল অনির্ণেয় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা, কূটনৈতিক চাপ এবং প্রতিক্রিয়া-প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

এই মুহূর্তে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; মিডল ইস্ট আই সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ও বিশ্লেষকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার সময় ও পরিধি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।