আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শুধু বাংলাদেশ দলের টুর্নামেন্টে থাকা বাতিল করেনি, পাশাপাশি দেশের সব ক্রীড়া সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশনও বাতিল করেছে। তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আইসিসি থেকে পাঠানো ই-মেইলে বলা হয়, বাংলাদেশি সাংবাদিকরা ভারত বা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপ কভার করার জন্য কোনো স্বীকৃতিপত্র পাবেন না। আইসিসির তৎপর বার্তায় বলা হয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না, তাই বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদেরও কভার করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
এই সিদ্ধান্তকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা গেছে। অনেকেই বলেছেন, তারা ঠিক সময়েই আইসিসির নির্ধারিত ফরমালিটি ও সময়সীমা অনুযায়ী আবেদন করেছিলেন এবং পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন—শুধু বাংলাদেশ দলের ম্যাচ নয়, পুরো টুর্নামেন্ট কভার করার পরিকল্পনা ছিল। কয়েকজন সাংবাদিক ইতোমধ্যে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিলেন।
এ ব্যাপারে আগেই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারত কেবল খেলোয়াড় নয়, দর্শক ও সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও নিরাপদ নয়—এই মন্তব্যও বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
আইসিসির এ সিদ্ধান্ত ক্রীড়া মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে প্রতিটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে; এমনকি ১৯৯৯-এর আগেও যখন বাংলাদেশ দল খেলেনি, তখনও সাংবাদিকরা বিভিন্ন আসরে সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছেন। তাই ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের মানুষের আবেগ ও সংবাদিক আগ্রহ সবসময়ই ছিল তীব্র—এই প্রেক্ষাপটেই এবার ওই নিষেধাজ্ঞা প্রবল বিতর্ক ও অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজকের খবর/ এমকে
