ময়মনসিংহে জন্ম নেওয়া কণ্ঠশিল্পী জাফর আহমেদ ছোটবেলা থেকেই গানে অনন্য অনুরাগী। তার প্রথম পদচারণা সংগীতের জগতে ঘটে প্রয়াত মাতা ফিরোজা বেগমের ছায়া-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে ওস্তাদ বিজয়দা ও শান্তিদার কাছ থেকে তালিম নেন এবং পরে ঢাকায় নেওয়াজ মাহমুদ চৌধুরীর সান্নিধ্যে গিয়ে গান পুরোপুরি রপ্ত করেন।
জাফর আহমেদের ভাষ্যে, তিনি মূলত গানকে ভালোবেসে এই পথচলায় এসেছেন। স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন ও ছেলে অভিষেক আহমেদের অনুপ্রেরণায় তার গানের জন্য পথচলা আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, “গানের সুরের মাঝে নিজেকে ভালো রাখা এবং গানকে ভালোবেসে থাকা আমার অন্যতম লক্ষ্য।”
পেশাজীবনে জাফর আহমদের শুরুটা ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে প্রথম গান পরিবেশন থেকেই। এরপর ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে আধুনিক গান ও নজরুল গীতিতে তালিকাভুক্ত হন এবং ধাপে ধাপে এ গ্রেড আর্টিস্টের মর্যাদা অর্জন করেন। টেলিভিশনে তিনি ‘সঙ্গীতা’ ও ‘মালঞ্চ’ অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ পান।
শিক্ষাজীবনেও তার নিজস্ব অবদান রয়েছে — ১৯৯৮ সালে পাবনা ক্যাডেট কলেজের সংগীত বিভাগের শিক্ষকতা করেন। এছাড়া ময়মনসিংহ মহিলা ক্যাডেট কলেজে বিচারক হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন জেলায় কনসার্ট ও অনুষ্ঠান পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি শ্রোতাদের মধ্যে ভালো খ্যাতি অর্জন করেন।
সন্দিপন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী তাকে সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। জাফর আহমেদ জানান, ভবিষ্যতেও তিনি সংগীত নিয়েই নিয়মিত কর্মমুখী থাকবেন এবং নতুন সফলতা অর্জনের পরিকল্পনা করছেন।
আজকালের খবর/আতে
